কক্সবাজার প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কক্সবাজারে ‘Clean Air for Climate Action’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এক যুব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে JETNetBD ও অ্যাকশান এইড এর সহযোগিতায় Students’ Platform Bangladesh-এর উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে বক্তারা বলেন, নির্মল বায়ু মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক অধিকার। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা, বর্জ্য পোড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বায়ুদূষণ দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অনেকগুলো উৎস অভিন্ন হওয়ায় এ দুটি সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার সাহাব উদ্দিন রানা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার ডঃ বেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমাম খায়ের। এছাড়া কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লেকচারার নাজিয়া আক্তার এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইউনুস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
যুব সংলাপটি সঞ্চালনা ও মডারেট করেন Students’ Platform Bangladesh-এর প্রধান নির্বাহী মো. আরিফ উল্লাহ।
বক্তারা বলেন, কক্সবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও উপকূলীয় অঞ্চল। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন ও জীববৈচিত্র্যের কারণে এ জেলার পরিবেশগত গুরুত্ব অনেক বেশি। তবে দ্রুত নগরায়ণ, পর্যটনকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ, নির্মাণকাজ, সড়কের ধুলাবালি, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানির ব্যবহার কক্সবাজারের পরিবেশ ও বায়ুর মানের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তাই কক্সবাজারকে পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল ও নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সংলাপে তরুণদের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার, স্থানীয় পর্যায়ে Clean Air Action Plan প্রণয়ন, অতিরিক্ত ধোঁয়া সৃষ্টিকারী ও অনুপযোগী যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, নির্মাণকাজে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ, নগর এলাকায় বৃক্ষ ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রসারের দাবি জানানো হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার, সরকারি সংস্থা, পরিবহন খাত, ব্যবসায়ী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং তরুণদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে সচেতনতা কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে বায়ুর মান নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা, বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার পক্ষে জনমত তৈরি এবং উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানোর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘Clean Air and Climate Action Club’ গঠন এবং তরুণদের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কক্সবাজারের বায়ুর মান ও পরিবেশসংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী তরুণরা নির্মল বায়ু ও জলবায়ু কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে নিজেদের ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে যুবসমাজের পক্ষ থেকে একটি যুব ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজক Students’ Platform Bangladesh জানায়, নির্মল বায়ু শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মান, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই কক্সবাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংলাপের শেষ পর্যায়ে বক্তারা “নির্মল বায়ু, নীল আকাশ, জলবায়ু কার্যক্রম—পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিক তরুণরা” স্লোগানকে সামনে রেখে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সংগঠনের সদস্য জিয়াউল কবির মুরাদ, তাহিয়ান কামাল, রফিকুল ইসলাম সাইদী, সাদ্দাম হোসেন আরিফ ও ওমর ফারুক।

0 Comments