ভারুয়াখালীকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ডিসিকে আবেদন

 



কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি করপোরেশনের সীমানায় ভারুয়াখালী ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন স্থানীয় নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের কাছে এ আবেদন জমা দেওয়া হয়।


কক্সবাজার পৌরসভা ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোকে নিয়ে সিটি করপোরেশন গঠনের উদ্যোগের মধ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর সীমানা নির্ধারণের জন্য অধিগ্রহণযোগ্য স্থান ঘোষণা করা হয়। এতে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ও চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন বাদ পড়ে। বিপরীতে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন প্রস্তাবিত সিটি করপোরেশনের আওতায় রাখা হয়েছে।


ভারুয়াখালী ও চৌফলদন্ডীকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় সড়ক এবং চায়ের আড্ডায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।


এর মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে আগ্রহী আশপাশের ইউনিয়নগুলোর বাসিন্দাদের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার পাশাপাশি গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এরপরই ভারুয়াখালীকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলো।


শহর থেকে মাত্র ৮.৫ কিলোমিটার


আবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার শহর থেকে খুরুশকুল হয়ে ভারুয়াখালীর দূরত্ব মাত্র ৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার। ভারুয়াখালী ও খুরুশকুলের মধ্যে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেতুটি চালু হলে ভারুয়াখালী থেকে কক্সবাজার শহরে প্রায় ১৫ মিনিটে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।


নাগরিক ফোরামের নেতাদের দাবি, ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকে ভারুয়াখালী কক্সবাজার শহরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। ফলে প্রস্তাবিত সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণের সময় ইউনিয়নটিকে বাদ দেওয়া যৌক্তিক নয়।


কর দিচ্ছেন, তবু সিটি করপোরেশনের বাইরে


আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারুয়াখালীর বাসিন্দারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পৌরসভার মতো কর ও আর্থিক দায় বহন করছেন। পাশাপাশি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের করের আওতাতেও রয়েছেন তাঁরা। ইউনিয়নের জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়।


এ ছাড়া ভারুয়াখালীতে উচ্চশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা, শিক্ষার হার, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েও ইউনিয়নটিকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।


নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, কক্সবাজারের নগর সম্প্রসারণ ও পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারুয়াখালীর ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাই সিটি করপোরেশনের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের আগে ভারুয়াখালীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


আবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার গোলাম কাদের, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট নেজামুল হক, অধ্যক্ষ বদরুল আলম, সহযোগী অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আরিফ, অ্যাডভোকেট শাহা আলম, অ্যাডভোকেট আবুহেনা, হাসমত আলী, মাস্টার শেফা উদ্দিন, ব্যাংকার আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক জহিরুল হক, ব্যাংকার সিফাত, ইঞ্জিনিয়ার রমিজ, প্রিন্স শাহিন উদ্দিন, ছাত্রনেতা আবু হানিফা, ওয়াসেম, আরফাতসহ স্থানীয় নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

Post a Comment

0 Comments