কক্সবাজারে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’


কক্সবাজার, ০৫ আগস্ট ২০২৬: 



“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬। আজ বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। সকাল ১০.০০ টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন জানিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও জুলাই যোদ্ধারা পর্যায়ক্রমে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 


দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১.০০ টায় পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে জুলাই শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালন শেষে জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের ব্যবস্থাপনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উপর নির্মিত চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসাক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমানসহ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সাজ্জাদ হোসাইন, একরামুল হক, শাহাব উদ্দিন, রবিউল হোসেন, আব্দুল রাকিব ও শাহিদুল ওয়াহিদ শাহেদ এবং জুলাই শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহিদ আহসান হাবিবের ভাই রায়হান ও শহীদ তানভীর সিদ্দিকীর বাবা বাদশা মিয়া বক্তব্য প্রদান করেন। 


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এটি কেবল একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, বৈষম্য, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এক অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ। বক্তারা আরো বলেন, এ আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সব মানুষ একাত্ম হয়েছিল, তাই জুলাই কোনো একক গোষ্ঠীর বা দলের নয়, এটি সমগ্র দেশবাসীর।


অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কক্সবাজার জেলার জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই শহিদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

0 Comments