“অপহরণ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫০ জন যুবক অংশগ্রহণ করেন।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া আলোচনা সভাটি দুপুর ১টায় শেষ হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া ও টেকনাফ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হ্নীলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমেদ আনোয়ারী, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ছিদ্দিকি, হোয়াইক্যং হাইওয়ে ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ আবছার কামাল, টেকনাফ উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা আক্তার, টেকনাফ উপজেলা জামায়াতের আমির রফিকউল্লাহসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বশির আহমেদ, নাসরিন পারভিন, রাহামা আক্তার, হ্নীলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী আহমেদ, হ্নীলা উত্তর শাখা যুবদলের সভাপতি হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রকিবুল হাসান বলেন, আমরা মাদক, অপহরণ ও মানব পাচার—এই তিনটি সমস্যায় জর্জরিত। আমরা সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, কিন্তু নির্মূল করতে প্রয়োজন আমাদের যুবসমাজকে। আমাদের যুবকরা যদি এই সমস্যাকে না বলে, তাহলেই টেকনাফবাসী এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। যুবকরাই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে।
নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, আমাদেরকে পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে হবে, এবং এখানে সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সদিচ্ছা প্রয়োজন। সমাজ থেকে অপরাধ, মাদক ও অপহরণ নির্মূলে যুবকদের সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
এডভোকেট হাসান ছিদ্দিকি বলেন, আমাদের এলাকার মূল সমস্যা মাদক। এই সমস্যার লাগাম টানতে পারলে আমাদের অন্যান্য অনেক সমস্যা এমনিতেই সমাধান হয়ে যাবে। এর জন্য প্রয়োজন দল-মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করা।
অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, আপনাদের পর্যাপ্ত সেবা প্রদান করার জন্য আমি বদ্ধপরিকর। আমি জনসাধারণের সঙ্গে মিলে এই সমস্যা সমাধান করতে চেষ্টা করব।
রফিকউল্লাহ বলেন, আমাদের সকল ক্ষেত্রেই মাদক জড়িত, এমনকি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। আমাদের উচিত সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
মর্জিনা সিদ্দিকী বলেন, আমাদেরকে পরিবার থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে ওয়ার্ড, ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন—এভাবে মাদকের আগ্রাসন কমিয়ে আনতে হবে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ সকল যুবকদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
0 Comments